শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

জামায়াত কর্মী সমাজ কর্মী

আজকে যে বিষয়ে কথা বলছি সেটি হলো ”জামায়াত কর্মী সমাজ কর্মী” অর্থাত জামায়াতে ইসলামীর প্রতিটি কর্মীকে একজন সমাজ কর্মীর ভুমিকা পালন করতে হবে।

মনে রাখতে হবে যে কোন সংগঠনের আনুগত্যশীল কর্মীর মূল দায়ীত্ব হয়ে থাকে সে সংগঠনের কর্মসূচী সম্পর্কে সঠিক ভাবে অবগত হওয়া এবং তা বাস্তবায়নের যথাযথ চেষ্টা করা। সুতরাং যারা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী তাদেরকে জামায়াতের কর্মসূচী সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা রাখতে হবে। তবেই একজন কর্মী হওয়ার দাবী আদায়ে যথাযথ ভাবে কাজ করতে পারবেন।

সমাজ সংস্কার ও সমাজ সেবা জামায়াতের স্থায়ী কর্মসূচী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ধারা ৬-এ ৪টি দফায় জামায়াতের স্থায়ী কর্মসূচী বর্ণনা করা হয়েছে। এ ৪দফা কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে। জামায়াতের ৪দফা কর্মসূচীর তৃতীয় দফা হলো সমাজ সংস্কার ও সমাজ সেবা। এতে বলা হয়েছে: ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সামাজিক সংশোধন, নৈতিক পুনর্গঠন ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন সাধন এবং দুঃস্থ মানবতার সেবা করা।

যেহেতু সমাজ সংস্কার ও সমাজ সেবা জামায়াতের একটি স্থায়ী কর্মসূচী সুতরাং যারা নিজেকে জামায়াত কর্মী বলে পরিচয় দেন তারা প্রত্যেকেই একজন স্থায়ী সমাজ কর্মী হিসেব কাজ করতে হবে। তবেই আপনি একজন আনুগত্যশীল কর্মী বলে গন্য হবেন।

জামায়াত কর্মী সমাজ কর্মী হতে হবে কেন?

সমাজসেবা হচ্ছে ইসলামি দাওয়াতের ভূমিকাস্বরূপ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমাজসেবার মাধ্যমে আরবের জনমানুষের হৃদয় ও মন জয় করেছিলেন- যা নবুয়তপ্রাপ্তির পর দাওয়াতি কাজে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। ‘হিলফুল ফুজুল’ সংগঠনের সমাজ সেবা দ্বারা নবী (সা.) এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিলেন যে, লোকেরা তাকে ‘আল আমিন’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

নবী (সা.) এর সেবাধর্মী চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে উম্মুল মুমিনিন খাদিজাতুল কুবরা (রা.) সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কখনোই অপমানিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করেন, অসহায়-দুর্বলের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সাহায্য করেন। মেহমানের সমাদর করেন এবং দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। (সহিহ বোখারি)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে সামনে রেখে আমাদের সমাজসেবামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে। আর্তমানবতার সেবা, সামাজিক সমস্যা দূরীকরণ ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ খুবই সওয়াবের কাজ। আর এতে অমনোযোগী হওয়া আল্লাহ তা’য়ালার অসন্তুষ্টি ও গোনাহের কাজ।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,

وَاعۡبُدُوۡا اللّٰهَ وَلَا تُشۡرِكُوۡا بِه شَيۡـًٔا‌ وَّبِالۡوَالِدَيۡنِ اِحۡسٰنًا وَّبِذِىۡ الۡقُرۡبٰى وَالۡيَتٰمٰى وَالۡمَسٰكِيۡنِ وَالۡجَارِ ذِىۡ الۡقُرۡبٰى وَالۡجَارِ الۡجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالۡجَنۡۢبِ وَابۡنِ السَّبِيۡلِۙ وَمَا مَلَكَتۡ اَيۡمَانُكُمۡ‌ اِنَّ اللّٰهَ لَا يُحِبُّ مَنۡ كَانَ مُخۡتَالاً فَخُوۡرًا اۨلَّذِيۡنَ يَبۡخَلُوۡنَ وَيَاۡمُرُوۡنَ النَّاسَ بِالۡبُخۡلِ وَيَكۡتُمُوۡنَ مَاۤ اٰتٰٮهُمُ اللّٰهُ مِنۡ فَضۡلِه وَاَعۡتَدۡنَا لِلۡكٰفِرِيۡنَ عَذَابًا مُّهِيۡنًا
‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে ও কোনো কিছুকে তার সঙ্গে শরিক করবে না এবং বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথি, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দাম্ভিক ও অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না- যারা কৃপণতা করে, মানুষকে কৃপণতার নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন, তা গোপন করে। ’ (সূরা নিসা : ৩৬-৩৭)

শেষ করতে চাই আল্লাহ তা’য়ালার প্রতিশ্রুত খিলাফতের সুসংবাদের বানী শোনিয়ে।
মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,
وَعَدَ اللّٰهُ الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡكُمۡ وَعَمِلُوۡا الصّٰلِحٰتِ لَيَسۡتَخۡلِفَنَّهُمۡ فِىۡ الۡاَرۡضِ كَمَا اسۡتَخۡلَفَ الَّذِيۡنَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمۡ دِيۡنَهُمُ الَّذِىۡ ارۡتَضٰى لَهُمۡ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمۡ مِّنۡۢ بَعۡدِ خَوۡفِهِمۡ اَمۡنًا‌ . يَعۡبُدُوۡنَنِىۡ لَا يُشۡرِكُوۡنَ بِىۡ شَيۡـًٔا‌ . وَمَنۡ كَفَرَ بَعۡدَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓٮِٕكَ هُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ
আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে তাদেরকে তিনি পৃথিবীতে ঠিক তেমনিভাবে খিলাফত দান করবেন যেমন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে দান করেছিলেন, তোমাদের জন্য দ্বীনকে অবশ্যই কর্তৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করবেন যা তিনি তোদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তোমাদের ভয়-ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তোমরা শুধু আমার বন্দেগী করো এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করো না। আর যারা এরপর কুফরী করবে তারাই ফাসেক। (সুরা নূর-৫৫)

সংকলনে: হাফেজ রশিদ আহমদ
আর্টিকেল লেখক ও ইসলামিক এক্টিভিস্ট

থেকে আরও পড়ুন