ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ইসলাম ধর্মের একজন গুরুত্বপূর্ণ নবী ও রাসূল। পবিত্র কুরআনে তার নামে একটি সূরাও রয়েছে। পুরো কুরআনে অনেকবার তার নাম উল্লেখিত হয়েছে।
ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে কুরআনে মুসলিম জাতির পিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার কার্যক্রম কে স্মরণ করে ঈদুল আযহা পালিত হয়। ইব্রাহিম (আ.) ও তার শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.) ইসলামে কুরবানি ও হজ্জের বিধান চালু করেন যা বর্তমানের মুসলিমদের দ্বারাও পালিত হয়।
ইবরাহীম আলাইহিস সালাম একজন অত্যন্ত আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। তাকে কুরআনে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যিনি খুব ছোট থেকেই আল্লাহকে বোঝার চেষ্টা করতেন। তিনি যে পৌত্তলিক পরিবেশে ছিলেন তার মধ্যেও আল্লাহকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করতেন। নক্ষত্র, সূর্য, বাতাস বা চাঁদ এই সমস্ত শক্তি যা তিনি দেখেছিলেন সেগুলোর মধ্যে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রকৃত শ্রষ্টার করেছিলেন।
আল-কুরআনে নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও মুর্তীপূজকদের কথোপকথন
وَلَقَدۡ اٰتَيۡنَاۤ اِبۡرٰهِيۡمَ رُشۡدَهٗ مِنۡ قَبۡلُ وَكُنَّا بِهٖ عٰلِمِيۡنَۚ
এরও আগে আমি ইবরাহীমকে শুভ বুদ্ধি ও সত্যের জ্ঞান দান করেছিলাম এবং আমি তাকে খুব ভালোভাবেই জানতাম।
اِذۡ قَالَ لِاَبِيۡهِ وَقَوۡمِهٖ مَا هٰذِهِ التَّمَاثِيۡلُ الَّتِىۡۤ اَنۡتُمۡ لَهَا عٰكِفُوۡنَ
সে সময়ের কথা স্মরণ করো যখন সে তাঁর নিজের বাপকে ও জাতিকে বলেছিল, “এ মূর্তিগুলো কেমন, যেগুলোর প্রতি তোমরা ভক্তিতে গদগদ হচ্ছো?”
قَالُوۡا وَجَدۡنَاۤ اٰبَآءَنَا لَهَا عٰبِدِيۡنَ
তারা জবাব দিলঃ “আমাদের বাপ-দাদাদেরকে আমরা এদের ইবাদাতরত অবস্থায় পেয়েছি।”
قَالَ لَقَدۡ كُنۡتُمۡ اَنۡتُمۡ وَاٰبَآؤُكُمۡ فِىۡ ضَلٰلٍ مُّبِيۡنٍ
সে বললো, “তোমরাও পথভ্রষ্ট এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যেই অবস্থান করছিল।”
قَالُوۡۤا اَجِئۡتَنَا بِالۡحَقِّ اَمۡ اَنۡتَ مِنَ اللّٰعِبِيۡنَ
তারা বললো, “তুমি কি আমাদের সামনে তোমার প্রকৃত মনের কথা বলছো, না নিছক কৌতুক করছো?”
قَالَ بَل رَّبُّكُمۡ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ الَّذِىۡ فَطَرَهُنَّۖ وَاَنَا عَلٰى ذٰلِكُمۡ مِّنَ الشّٰهِدِيۡنَ
সে জবাব দিল, “না, বরং আসলে তোমাদের রব তিনিই যিনি পৃথিবী ও আকাশের রব এবং এদের স্রষ্টা। এর স্বপক্ষে আমি তোমাদের সামনে সাক্ষ্য দিচ্ছি।
وَتَاللّٰهِ لَاَكِيۡدَنَّ اَصۡنَامَكُمۡ بَعۡدَ اَنۡ تُوَلُّوۡا مُدۡبِرِيۡنَ
আর আল্লাহর কসম, তোমাদের অনুপস্থিতিতে আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে অবশ্যি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
فَجَعَلَهُمۡ جُذٰذًا اِلَّا كَبِيۡرًا لَّهُمۡ لَعَلَّهُمۡ اِلَيۡهِ يَرۡجِعُوۡنَ
সে অনুসারে সে সেগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেললো এবং শুধুমাত্র বড়টিকে ছেড়ে দিল, যাতে তারা হয়তো তার দিকে ফিরে আসতে পারে।
قَالُوۡا مَنۡ فَعَلَ هٰذَا بِاٰلِهَتِنَاۤ اِنَّهٗ لَمِنَ الظّٰلِمِيۡنَ
(তারা এসে মূর্তিগুলোর এ অবস্থা দেখে) বলতে লাগলো, “আমাদের ইলাহদের এ অবস্থা করলো কে, বড়ই জালেম সে।”
قَالُوۡا سَمِعۡنَا فَتًى يَذۡكُرُهُمۡ يُقَالُ لَهٗۤ اِبۡرٰهِيۡمُؕ
(কেউ কেউ) বললো, “আমরা এক যুবককে এদের কথা বলতে শুনেছিলাম, তাঁর নাম ইবরাহীম।”
قَالُوۡا فَاۡتُوۡا بِهٖ عَلٰٓى اَعۡيُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمۡ يَشۡهَدُوۡنَ
তারা বললো, “তাহলে তাকে ধরে নিয়ে এসো সবার সামনে, যাতে লোকেরা দেখে নেয়” (কিভাবে তাঁকে শাস্তি দেয়া হয়)।
قَالُوۡٓا ءَاَنۡتَ فَعَلۡتَ هٰذَا بِاٰلِهَتِنَا يٰۤاِبۡرٰهِيۡمُؕ
(ইবরাহীমকে নিয়ে আসার পর) তারা জিজ্ঞেস করলো, “ওহে ইবরাহীম! তুমি কি আমাদের ইলাহদের সাথে এ কাণ্ড করেছো?”
قَالَ بَلۡ فَعَلَهٗۖ كَبِيۡرُهُمۡ هٰذَا فَسۡـَٔلُوۡهُمۡ اِنۡ كَانُوۡا يَنۡطِقُوۡنَ
সে জবাব দিল, “বরং এসব কিছু এদের এ সরদারটি করেছে, এদেরকেই জিজ্ঞেস করো, যদি এরা কথা বলতে পারে।”
فَرَجَعُوۡۤا اِلٰٓى اَنۡفُسِهِمۡ فَقَالُوۡۤا اِنَّكُمۡ اَنۡتُمُ الظّٰلِمُوۡنَۙ
একথা শুনে তারা নিজেদের বিবেকের দিকে ফিরলো এবং (মনে মনে) বলতে লাগলো, “সত্যিই তোমরা নিজেরাই জালেম।”
ثُمَّ نُكِسُوۡا عَلٰى رُءُوۡسِهِمۡۚ لَقَدۡ عَلِمۡتَ مَا هٰٓؤُلَآءِ يَنۡطِقُوۡنَ
কিন্তু আবার তাদের মত পাল্টে গেলো এবং বলতে থাকলো, “তুমি জানো, এরা কথা বলে না।”
قَالَ اَفَتَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ مَا لَا يَنۡفَعُكُمۡ شَيۡـًٔا وَّلَا يَضُرُّكُمۡؕ
ইবরাহীম বললো, “তাহলে তোমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমনসব জিনিসের পূজা করছো যারা তোমাদের না উপকার করতে পারে, না ক্ষতি?
اُفٍّ لَّكُمۡ وَلِمَا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ
ধিক তোমাদেরকে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব উপাস্যের তোমরা পূজা করছো তাদেরকে। তোমাদের কি একটুও বুদ্ধি নেই?”
قَالُوۡا حَرِّقُوۡهُ وَانصُرُوۡۤا اٰلِهَتَكُمۡ اِنۡ كُنۡتُمۡ فٰعِلِيۡنَ
তারা বললো, “পুড়িয়ে ফেলো একে এবং সাহায্য করো তোমাদের উপাস্যদেরকে, যদি তোমরা কিছু করতে চাও।”
قُلۡنَا يٰنَارُ كُوۡنِىۡ بَرۡدًا وَّسَلٰمًا عَلٰٓى اِبۡرٰهِيۡمَۙ
আমি বললামঃ “হে আগুন! ঠাণ্ডা হয়ে যাও এবং নিরাপদ হয়ে যাও ইবরাহীমের জন্য।”
وَاَرَادُوۡا بِهٖ كَيۡدًا فَجَعَلۡنٰهُمُ الۡاَخۡسَرِيۡنَۚ
তারা চাচ্ছিল ইবরাহীমের ক্ষতি করতে কিন্তু আমি তাদেরকে ভীষণভাবে ব্যর্থ করে দিলাম।
(সুরা আম্বিয়া ৫১-৭০)
এছাড়াও ইবরাহীম আলাইহিস সালামের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা রয়েছে সূরা বাকারার ১২৪ থেকে ১৪১ ও ২৫৮ থেকে ২৬০, আন’আমের ৭৪ থেকে ৮১, তাওবার ১১৪, হূদের ৬৯ থেকে ৭৪, ইবরাহীমের ৩৫ থেকে ৪১, আল হিজরের ৫১ থেকে ৬০ এবং আন নাহলের ১২০ থেকে ১২৩।
লেখক : হাফেজ রশিদ আহমদ
