back to top
শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

জামায়াতের ২০২৪ সালের আয় ২৯ কোটি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই আছে টাকা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২০২৪ পঞ্জিকা বছরে আয় হয়েছে প্রায় ২৯ কোটি টাকা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, দলের নামে কোনো ব্যাংক হিসাব নেই—এমন তথ্যই উঠে এসেছে তাদের অডিট রিপোর্টে। ফলে এই বিপুল অর্থ কোথায় জমা ছিল বা কোন উৎস থেকে ব্যয় হয়েছে, তার সঠিক ব্যাখ্যা মেলেনি।

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সই করা রিপোর্টটি ২৯ জুলাই নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—আয় ও ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই।

ইসির নীতিমালা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, ব্যাংকের নাম, তহবিলের উৎস এবং সর্বশেষ লেনদেনের হিসাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে এই শর্ত পূরণ না করায় আগে নতুন দলগুলোকে সতর্ক চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”

রিপোর্টে দেখা যায়, গত বছরে জামায়াতের মোট আয় হয়েছে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ২৯৯ টাকা। এর মধ্যে কর্মী ও সদস্যদের চাঁদা থেকে এসেছে ১৬ কোটি ৫৬ লাখ ৪২ হাজার ১৬২ টাকা, বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংস্থার অনুদান ১১ কোটি ৮৬ লাখ ৩৮ হাজার ৬১৯ টাকা, পত্রিকা-বই বিক্রি থেকে ৯ লাখ ১১ হাজার ২৯০ টাকা, এবং অন্যান্য চাঁদা ৭ লাখ ২১ হাজার ৭৯ টাকা। এছাড়া আগের বছরের ১০ কোটি ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৯১ টাকা স্থিতি হিসাবেও যোগ হয়েছে।

ব্যয়ের খাতগুলোতেও উল্লেখযোগ্য অঙ্ক দেখা গেছে। কর্মীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস বাবদ খরচ হয়েছে ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৭৩ টাকা, আবাসন ও প্রশাসনিক ব্যয় ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭ হাজার ৪৯৫ টাকা, প্রচারণা ও পরিবহন ২ কোটি ৭০ লাখ ৬ হাজার ৫৬৩ টাকা, এবং প্রার্থীদের অনুদানেই ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৫ লাখ ১৫ হাজার ৪২০ টাকা। এছাড়া যাতায়াত, জনসভা, আপ্যায়ন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও অন্যান্য খাতে আরও কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৭ টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে নিবন্ধন বাতিলের আগে সবশেষ আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছিল জামায়াত। এক যুগ পর নিবন্ধন ফিরে পেয়ে তারা আবারও হিসাব দিলেও, ব্যাংক হিসাববিহীন এই বিপুল অর্থের উৎস ও সংরক্ষণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

থেকে আরও পড়ুন