back to top
শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

ইসলাম ও জাহেলিয়াত বই নোট : সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী

ইসলাম ও জাহেলিয়াত বইটি মূলত মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী রাহিমাহুল্লাহ‘র একটি ভাষণ। ১৯৪১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পেশোয়ার ইসলামিয়া কলেজের মজলিশে ইসলামিয়াতের সভায় এভাষন দেন তিনি, যা পরবর্তীতে ‘ইসলাম ও জাহেলিয়াত’ নামে বই আকারে প্রকাশিত হয়।

ভূমিকা:
আচরনের সাধারন নীতি:

  • কোন ব্যক্তি বা বস্তুর সাথে সম্পর্ক স্থাপনআচরনব্যবহারের পূর্বেই তার সম্পর্কে ধারনা নেয়া।
  • ব্যক্তি বা বস্তুর অভ্যন্তরীন নির্ভুল জ্ঞান লাভ করা সম্ভব না হলে বাহ্যিক নিদর্শন সমূহ থেকে ধারনা গ্রহন করতে হবে।
  • নির্ধারিত ধারনার ভিত্তিতে ভালবাসাভয়সম্মানউপেক্ষারক্ষনাবেক্ষনপরিত্যাগ ইত্যাদি হয়ে থাকে।
  • প্রাপ্ত জ্ঞান বা ধারনা যত নির্ভুল হবে আচরন বা ব্যবহার তত নির্ভুল হবে।

জ্ঞানের সাধারন উৎস:

যে কোন বিষয়ে জ্ঞান লাভেরউৎস- ৩ টি

  1. ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পর্যবেক্ষন,
  2. আন্দাজঅনুমান বা অমূলক ধারনা,
  3. নির্ভূল বিজ্ঞান

মানব জীবনের মৌলিক সমস্যা:

১. মানব মনের স্বাভাবিক প্রশ্ন:

  • ক) নিজ সত্ত্বা সম্পর্কিত প্রশ্ন।
  • খ) মানব সমাজ সম্পর্কিত প্রশ্ন।
  • গ) বিশ্ব প্রকৃতি ও বস্তুজগৎ সম্পর্কিত প্রশ্ন।

২. মানব মান ও প্রশ্নের উত্তর:

  • সকল মানুষের মনে এর উত্তর বিদ্যমান তবে সকলের কাছে এর দার্শনিক উত্তর নাও থাকতে পারে।
  • চিন্তা সংগঠিত বা অসংগঠিত হতে পারে এবং এর ভিত্তিতে কর্ম সম্পাদিত হয়।
  • মানুষের সকল কর্ম তার একটি চিন্তা বা দর্শনের প্রতিফলন।

৩. উত্তরের গুরুত্ব:

  • উত্তরের গুরুত্ব ব্যক্তিদল বা জাতির জন্যে সমান।
  • এর ভিত্তিতে সমাজ,রাষ্ট্র বা সভ্যতার জন্য বিধান কর্মসূচী রচিত হয়।
  • এর ভিত্তিতে নৈতিক মূল্যায়ন নির্ধারন জীবনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগের বাস্তবরুপ হবে।
  • চিন্তা ও দর্শন থেকে যেমন বাস্তব রুপায়ন হয় তেমনি বাস্তব আচরন থেকে চিন্তা বা দর্শন পাওয়া  যায়।

৪. প্রশ্নপত্রের উত্তরের উৎস:

  • যেহেতু প্রশ্নগুলো ব্যক্তিগত কোন বিষয়ে নয় এ কারনে কোথাও উত্তরসুনির্দিষ্টভাবে লেখা নেই যে জম্মের পরপর পড়ে নিজ যোগ্যতা বলে বুঝে নিবে।
  • উত্তর এমন সহজও সুস্পষ্ট নয় যে প্রত্যেকে তা সহজেই জেনে যাবে।
  • এ সকল পন্থায় প্রাপ্ত উত্তরসমূহ কি কি?

৫. উত্তর নির্ধারনের উপায়:

  • নিজের বাহ্যন্দ্রিয়ের উপর নির্ভর করা এবং তদলব্দ জ্ঞানের ভিত্তিতে উত্তর নির্ধারন।
  • ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে পর্যবেক্ষন এবং এর সাথে অনুমান ধারনা যোগ করে একটি নীতি ঠিক করা।
  • আল্লাহ প্রেরিত নবীগন প্রকৃত সত্য জানা দাবী করে উক্ত প্রশ্নাবলীর যে উত্তর দিয়েছের তা গ্রহন করা।

উত্তরের বিভিন্নতার প্রভাব: উত্তর লাভের জন্য আজ পর্যন্ত ব্যবহৃত পন্থা তিন টি।

  • প্রত্যেকটির উত্তর স্বতন্ত্র আচরন নীতি
  • নৈতিক আদর্শস্বতন্ত্র
  • সাহিত্য সাংস্কৃতির ব্যবস্থাও স্বতন্ত্র

নির্ভেজাল ও শিরক মিশ্রিত জাহেলিয়াতের পার্থক্য:

  • শিরকে পূজা মানত অর্ঘ্য ইত্যাদি অনুষ্ঠানের আধিক্য নির্ভেজালে এসবেরঅস্তিত্ব নেই। কিন্তু নৈতিক চরিত্র ও কর্মের ক্ষেত্রে কোন তফাৎ নেই।
  • শিরকের শিক্ষা শিক্ষাদর্শন। সাহিত্য রাজনীতির জন্য পৃথক কোন মূলনীতি নেই। তাই নির্ভেজাল থেকে তা গ্রহন করে।
  • মুশরিক কল্পনা বিলাসী। নির্ভেজাল বাস্তব কর্মী।
  • শিরকের রাজ্যে রাজা ও ধর্মীয় নেতাগন খোদার আসনে। বংশ এবং শ্রেণী প্রধানের উপর এ মতবাদ প্রতিষ্ঠিত।
  • নির্ভেজালের রাজত্বে পরিবার পূজাবংশপূজাজাতি পূজাএকনায়কতন্ত্রসাম্রাজ্যবাদপুঁজিবাদ শ্রেণী সংগ্রামে পরিগ্রহ হয়।

বৈরাগ্যবাদ:

বাস্তব পর্যবেক্ষনের সাথে আন্দাজ অনুমানের সংমিশ্রনেমানবজীবনের মৌলিক প্রশ্নসমূহের যে সব উত্তর ঠিক হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল বৈরাগ্যবাদ।

বৈশিষ্ট্য:

  1. ১. পৃথিবীএবং মানুষের শারীরিক স্বত্বাস্বয়ংমানুষের জন্যএকটি শান্তি কেন্দ্রবিশেষ আর মানুষের আত্নাকে দন্ডপ্রাপ্তকয়েদীর ন্যায়পিঞ্জিরাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
  2. ২. ঈন্দ্রিয়ের সকল প্রয়োজন ও বাসনা বন্দী খানার শৃংখলের ন্যায়।
  3. ৩. মুক্তি লাভের একমাত্র উপায় প্রকৃতিগত বিভিন্ন প্রয়োজনকে কঠোরভাবেঅবদমিত করাস্বাদ আস্বাসন পরিহার করা এবং দেহ মনের কঠোর কৃচ্ছ সাধন।
  4. ৪. স্রষ্টার অস্তিত্ব ও অন্যান্য মৌলিক ব্যাপারে এর সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই কার্যত নিরব।

সর্বেশ্বরবাদ:

অবাস্তব আন্দাজ অনুমান ভিত্তিক পর্যবেক্ষন ও অনুশীলনের ফলে তৃতীয় যে মতটির সৃষ্টি হচ্ছে তা হচ্ছে সর্বেশ্বরবাদ।

বৈশিষ্ট্য: ১. বিশ্ব প্রকৃতির আলাদা কোন সত্তা নেই। মূলত একটি সত্তাই সমস্ত বস্তুজগতের মাধ্যমে স্বত:স্ফূর্তভাবে প্রকাশমান।

ইসলাম:

মানুষ ও বিশ্ব প্রকৃতি সম্পর্কে মৌলিক প্রশ্নসমূহের যে জওয়াবআল্লাহ প্রেরিত নবীগন দিয়েছেন তা আন্তরিকতা সহকারে পূর্ণরুপে গ্রহন করারনামই ইসলাম।

নির্ভুল পথ লাভের সাধারন নিয়ম:

১. পথ অনুসন্ধান:

  • কোন অপরিচিত স্থানে পরিভ্রমন।
  • কোন রুপ অভিজ্ঞতা না থাকলে অন্য কারো নিকট হতে জিজ্ঞাসা।
  • পথ নির্দেশ লাভ ও সে স্থানে ভ্রমন।

বৈজ্ঞানিক পন্থা: এক্ষেত্রে পূর্ণ অভিজ্ঞতার পূর্ন দাবীদার খোজা।

  • দাবীদার বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য কিনা তা যাচাই করা।
  • দাবীদারের নেতৃত্বে পথ চলা।
  • বাস্তব অভিজ্ঞতার দাবী প্রমাণ।

মানুষ ও বিশ্ব সম্পর্কে নবীর মত:

  1. ১. বিশ্বজাহান সৃষ্টি ও পরিচালনা করেন মহান আল্লাহ।
  2. ২. মানব সৃষ্টি ও তার অবস্থান।
  3. ৩.মানুষের পারস্পরিক আচরন ও বস্তুসামগ্রী ব্যবহার নীতি।
  4. ৪. আল্লাহর বিধান প্রদর্শনের দায়িত্ব রাসূল সা: এর উপর।
  5. ৫. মানুষের মর্যাদা ও দায়িত্ব।
  6. ৬. পরকালীন জীবন ও জবাবদিতা।

মানুষের তৎকালীন সাফল্য দুটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল:

  • ১. মানুষ নিজের বুদ্ধিবিবেকপ্রতিভার নির্ভুল প্রয়োগের মাধ্যমেআল্লাহতায়ালাকে প্রকৃত ও একমাত্র ব্যবস্থাপক ও আইন রচয়িতা এবং তার নিকটহতেপ্রাপ্ত শিক্ষা ও বিধানকে যথার্থ আল্লাহর বিধান হিসেবে জানতে পারলো কিনা?
  • ২. এ নিগূঢ় সত্য জেনে নেওয়ার পর পথ নির্বাচনের স্বাধীনতা থাকা সত্বেওমানুষ নিজের আন্তরিক ইচ্ছা ও আগ্রহ সহকারে আল্লাহ তায়ালার বাস্তব প্রভূত্ব ওশরীয়তী বিধানের কাছে মাথা নত করলো কিনা?

ইসলামী মতবাদ:

  • ১. বৈজ্ঞানিকনির্ভুল ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা।
  • ২. ফিতরাতের বিধান এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা উত্তরন।
  • ৩. পার্থিব জীবনে এরফলাফল:
  • ক) ব্যক্তিগত জীবনে দায়িত্বশীলতা ও উন্নত নৈতিকতা।
  • খ) বৈষম্যহীন ও নিরপরাধ সমাজ ব্যবস্থা।
  • গ) ইসলামের সার্বজনীনতা ও সরলতা।
  • ঘ) রাষ্ট্রব্যবস্থার বুনিয়াদ মানব প্রভুত্বের উপর নয়আল্লাহর প্রভুত্বের উপর।
  • ঙ) সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আত্নপূজার পরিবর্তে আনুগত্য।
  • চ) বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আহবান।
    নবীদের উপস্থাপিত পথে পরিচালনা করতে হবে। সুতরাং নবীদের আনীত পথ তথা ইসলাম সঠিক পথ এবং এটাই একমাত্র অনুসরনীয়।

থেকে আরও পড়ুন