বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০২৪
৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ১৫ বছর পর আসন বিন্যাসে শৃঙ্খলায় আসলো বুটেক্সের ওসমানী হল

সানজানা শওকত মম
বুটেক্স প্রতিনিধি

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) জিএমএজি ওসমানী হলে অবৈধ শিক্ষার্থীদের দখলদারী, বারবার বিজ্ঞপ্তির পরও পাশ করা শিক্ষার্থী হল না ছাড়া, হলে উঠার বিষয়ে এলাকাভিত্তিক প্রথার প্রচলন, রুমে উঠার বিষয়ে এলাকাভিত্তিক বৈষম্যসহ যেসব সমস্যা ছিলো তা হল প্রশাসনের সম্প্রতি কার্যক্রমে সমাধানের মুখ দেখছে। হলে কোন রুমে কে থাকবে তা রাজনৈতিক প্রভাবে এলাকাভিত্তিক প্রথায় এতদিন নির্ধারণ হলেও এবার দুপাক্ষিক সমন্বয়ে কক্ষ পূনর্বিন্যাসের কাজ করলো হল প্রশাসন। কক্ষ পূনর্বিন্যাসের কাজ এর আগে দীর্ঘ ১৫ বছর পূর্বে হল প্রশাসন করে।

একাধিক সূত্র হতে জানা যায়, হলটিতে যে মূল সমস্যা ছিলো তা হলো পাশ করা শিক্ষার্থী হল থেকে বের না হওয়া। এতে বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও পাশ করা শিক্ষার্থীরা বছরখানেক সময়ের মধ্যেও হল থেকে বের হত না। প্রতি বছর নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হলে উঠানোর কথা থাকলেও হলে উঠানো যেত না বা উঠাতে বেশি সময় লাগতো। শিক্ষার্থীদের রুমে উঠতে ও আসন পেতে সমস্যা হতো। আবার পাশ করা কিছু শিক্ষার্থী রুমে একা বা কয়েকজন নিয়ে থাকার অভিযোগ পাওয়া যেত।

গত ২২ এপ্রিল এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যেসব শিক্ষার্থী এলোটমেন্ট ছাড়া হলে অবস্থান করছে তারা যেন এলোটমেন্ট নেয়। এলোটমেন্ট ছাড়া অবৈধ শিক্ষার্থীদের কক্ষ পূনর্বিন্যাসে বিবেচনা করা হবে না। যদিও এর আগে একাধিক নোটিশে পাশ করা শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এলোটমেন্ট নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়ার পর গত ৩ মে হল প্রভোস্ট ড. মো. সাইদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ৪৫-৪৬-৪৭-৪৮তম শিক্ষার্থীদের জন্য কক্ষ পূনর্বিন্যাসে নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে কোন শিক্ষার্থী কোন রুমে অবস্থান করবে সেই তালিকা দেওয়া হয় এবং সাত কার্যদিবসের মধ্যে নতুন কক্ষে ওঠার জন্য নির্দেশ প্রদান করে। বৃহস্পতিবার (৯ মে) হল প্রভোস্ট, সহকারী হল প্রভোস্ট, হাউজ টিউটরের উপস্থিতিতে কক্ষ পূনর্বিন্যাসের কাজ চালানো হয়। ফলে পুরো দিনে সকল ব্যাচের শিক্ষার্থী নতুন কক্ষে ওঠার কার্যক্রম চলে।

এ নিয়ে হলের একাধিক শিক্ষার্থীর মতে, আগে এলাকা ও রাজনৈতিক প্যানেলভিত্তিক সিনিয়রদের মাধ্যমে যেভাবে কক্ষ পূনর্বিন্যাসের কাজ হতো তাতে নতুন রুমে উঠতে কিছুক্ষেত্রে মাসখানেক সময় লেগে যেত। এখন হল প্রশাসন উপস্থিত থেকে যেভাবে একদিনের মধ্যে নতুন রুমে উঠার কাজটি করেছে তা প্রশংসার যোগ্য।

কিন্তু বেশ কিছু শিক্ষার্থী আবার ক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাদের মতে, হল প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের সাথে সমন্বয় করে হলে কক্ষ পূনর্বিন্যাসের কাজ করা হয়েছে। কিন্তু যদি প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি দুই প্যানেলের সাথে সমন্বয় করা যেত তাহলে আরও ভালো হতো। সেক্রেটারি প্যানেলের শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় রুম প্রতি বেশি শিক্ষার্থী থাকা লাগছে।

আগে শিক্ষার্থীদের এলোটমেন্ট বা হল কর্তৃপক্ষের নিয়মের বাইরে এলাকাভিত্তিক বা জোনাল প্রথায় নবীন শিক্ষার্থীদের উঠানো হতো। এতে রাজনীতিতে বেশি সক্রিয় শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া হতো।

এ নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৪৮তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, এবার স্থায়ী সিট পাওয়ায় ভালো লাগছে। স্যাররা রুম পূনর্বিন্যাসের কাজ নিজেদের তত্ত্বাবধানে করেছেন। সামনে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা, পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভালো হবে। আগে জোনাল প্রথায় হলে অবৈধভাবে ছিলাম। এখন বৈধ কক্ষ পেয়ে মানসিক স্থিরতা কাজ করছে। তবে রুমের শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় সমস্যা মনে হচ্ছে। আশা করি সামনে এ সমস্যাটাও কেটে যাবে।

আগে পাশ করা শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়া এবং অনেক বেশি শিক্ষার্থীদের চাপ থাকায় নতুনদের কক্ষে জায়গা দেওয়া যেত না। অনেকে দীর্ঘ সময় যাবত থাকত গণরুমে। পাশ করা ও অবৈধ শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ায় অনেকাংশে গণরুম প্রথা দূর হচ্ছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেব্রিক ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাজবিউল হাসান নিশাত বলেন, আমরা দীর্ঘ ৮ মাস গণরুমে একসাথে গাদাগাদি করে ছিলাম। ছিল না পড়াশোনার কোনো পরিবেশ। অবশেষে আমরা কক্ষ পেলাম। বিষয়টা অত্যন্ত আনন্দের। কক্ষ স্থানান্তরে জড়িত শিক্ষকসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং আশা করি স্যাররা এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। আশা করি কক্ষ পেতে সামনে অনুজরা আমাদের মতো দুর্ভোগ ভোগ করবে না হলে।

কক্ষ পূনর্বিন্যাসের কার্যক্রম নিয়ে জিএমএজি ওসমানী হলের হল প্রভোস্ট ড. মো. সাইদুজ্জামান বলেন, হলে কক্ষ পূনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পন্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রাধান্য দিতে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। একই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি কক্ষে সমানসংখ্যক শিক্ষার্থী রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিছুক্ষেত্রে হিসাব মিলানোর জন্য কিছু রুমে বাড়তি শিক্ষার্থী দিতে হয়েছে।

হল প্রশাসন কর্তৃক হলে রুম দেওয়ার প্রথার পরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

এ নিয়ে বুটেক্স ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরান বলেন, যেহেতু হল প্রশাসন ও আমাদের সমন্বয়ে কক্ষ পূনর্বিন্যাসের কাজ হয়েছে তাই আমাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব পরবে না।

থেকে আরও পড়ুন

টেক্সটাইল প্রসেসিং ও টেকসইয়ে গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে...

 সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় চলমান গণহত্যা ও ইসরায়েলের শোষণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের...

  দাখিল পরীক্ষা চলাকালে মাওলানা আসাদ আলী ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দৈনিক কালবেলার...

কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির জাতীয় অনুষ্ঠান ‘বৈশাখের রং লাগাও প্রাণে’মোবাশ্বের নেছারী কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ...