শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৪
৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বুটেক্সে বাস সংকটে ভোগান্তির স্বীকার অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা

সানজানা শওকত মম
বুটেক্স প্রতিনিধি

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)- এর বাস সংকটে ভোগান্তির কবলে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক অনেক  শিক্ষার্থী।

 

পর্যাপ্ত বাস না থাকা, পুরোনো বাস ব্যবহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস না থাকা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে। এমনকি প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যাতায়াত করতে পারছে না। ভাড়া করা পুরনো বিআরটিসির বাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব অর্থায়নে কেনা দুটি বাসের মধ্যে একটি কেবল ফ্যাক্টরি পরিদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং অন্যটি সার্ভিসিং এর বাহিরে রয়েছে।

 

 

বিশেষ করে তন্তু(সাইনবোর্ড-ক্যাম্পাস) বাসের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি যেন আরও একধাপ বেশি। উক্ত রুটে প্রায় ২০০ জনের অধিক শিক্ষার্থী যাতায়েত করলেও মাত্র একটি একতলা বাস চলাচল করে।ফলে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাদুরঝোলা হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে যাতায়াত করছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ডাবল ডেকার বা একতলা দুটি বাস যুক্ত করার দাবি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

৪৭ ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিংয় বিভাগের শিক্ষার্থী মো: হাসিবুর রহমান রাতুল জানান,  সাইনবোর্ড থেকে ক্যাম্পাস  রুটে শিক্ষার্থী সংখা ২০০ এরও অধিক একই সাথে  যেখানে নিয়মিত বাস ব্যবহার করে ৮৫-৯০ জন। ফলস্রুতিতে অনেক শিক্ষার্থীকে দাড়িয়ে যেতে হয়,এমন অবস্থা হয় যে বাসে দাঁড়ানোর ও জায়গা থাকে না তখন অনেক শিক্ষার্থীকে দরজায় দাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে যেতে হয়। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও এ বিষয়ে তারা ব্যাপক উদাসিন।প্রতিবার বাজেট হলে ব্যাবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেও কয়েক বছরেও এর প্রতিফল ঘটেনি।

 

 

একই ব্যাচ ও বিভাগের শিক্ষার্থী নুর নাহার আক্তার বলেন, আমাদের  রুটের বাসের যাত্রীসংখ্যা সিটের তুলনায় দিগুন এর ও বেশি। ছেলেরা তো দাঁড়িয়ে যায়ই গত ১.৫ বছর ধরে ছেলেদের  পাশাপাশি প্রতিদিনই   ২০-২৫ জনের মত মেয়েরাও দাঁড়িয়ে যায়। বর্তমানে তো দাঁড়িয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার বাসা খিলগাঁওতে, শুধু খিলগাঁও না বাসাবো, বৌদ্ধ মন্দির, মুগদা, গোলাপবাগ এসব রুটে সরাসরি আর কোন বাস সার্ভিস না থাকায়, আমার মতোএই রুটের মেয়েদের জন্য এই বাসই যাতায়াতের একমাত্র উপায় বলা যায়। কিন্তু এখন বাসে দাঁড়ানোর জায়গাও থাকেনা। এই রুটে ডাবল ডেকার বা তন্তু বাসের পাশাপাশি  আর একটি বাস দেয়া হলে এই ভোগান্তি লাঘব সম্ভব।আমি তন্তু বাসে ১.৫ বছর ধরে যাতায়াত করি, কিন্তু ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় হাতে গোনা কয়েকদিন মনে হয় বসে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।সাধারণ দিন গুলোতো তাও মেনে নেওয়া যায়,কিন্তু একজন মেয়েত সব সময় সুস্থ থাকেনা ওই বিশেষ সময় যখন দাঁড়িয়ে যেতে হয় তখন আর কিছু বলার থাকেনা।আর এতক্ষণ দাঁড়িয়ে আবার পুনরায় দাঁড়িয়ে ল্যাব করা (যেদিন  সকালে ল্যাব থাকে)ওই দিন  কষ্টের যেন আর সীমানা থাকে না।

 

৪৯ ব্যাচের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার ও বনশ্রী থেকে আমরা প্রায় ৬০ এর অধিক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে থাকি। এই রুট এ কোন বাস না থাকায় নিয়মিত যাতায়াতের ক্ষেত্রে অন্তহীন ভোগান্তির শিকার হতে হয়; তাছাড়া এই রুট এর বাস ভাড়াও অত্যধিক বেশি। ঔ রুট এর বাস গুলো সম্পুর্ন যাত্রী দ্বারা পূর্ণ থাকে ফলে নিয়মিত দাড়িয়ে যাতায়াত করে ল্যাব ক্লাস গুলো সময় মত যথা মনযোগ সহকারে করা অনেকটা অসম্ভব বিষয়। সামগ্রিক দিক বিবেচনায় এই রুট এ আমাদের ভার্সিটি বাস সার্ভিস এখন সময়ের দাবি।

 

এব্যাপারে যানবাহন কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের ইউজিসি থেকে ৪ টি বাসের অনুমোদন নেয়া আছে। তবে আমাদের আরো দুটো থেকে তিনটা বাস দরকার। তবে এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হবে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আমি ভিসি স্যারকে অবহিত করব এবং তিনি কিছু দিন মনিটরিং করে ইউজিসির কাছে আবেদন করবেন। তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়।

 

বুটেক্সের নিজস্ব বাস কেন নেই এবং বর্তমানে যে বিআরটিসির যে বাসগুলো আছে সেগুলো পুরনো হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আসলে আমরা সব সময় চাই নতুন বাস। শিক্ষার্থীরা যদি পুরনো বাস নিয়ে অভিযোগ তুলে তাহলে আমি বিআরটিসির দায়িত্বে যারা আছেন তাদের সাথে কথা বলে নতুন বাসের ব্যবস্থা করব।

 

বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব বাস কেন নেই এ ব্যাপারে তিনি বলেন, বর্তমানে অর্থমন্ত্রনালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যানবাহন কেনার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ফলে কেবল শিক্ষার্থীরাই নয় কর্মকর্তারাও ভুক্তভোগী হচ্ছেন। কর্মকর্তারাও বিভিন্ন রুটে যানবাহনের জন্য আবেদন করেছেন। কেননা কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য কোন যানবাহন না থাকায় শিক্ষকদের সাথে যাতায়াত করতে হত। ফলে অফিস আওয়ার এর অনেক পূর্বে তাদের ক্যাম্পাসে আসতে হয় এবং অফিস আওয়ার শেষ হয়ে গেলেও অনেকটা সময় ক্যাম্পাসে বসে থাকতে হয়।

 

তিনি আরও বলেন,  বিস্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস থাকা অবশ্যই ভালো। কেননা বিআরটিসির সার্ভিস ও ভালো না এবং ভাড়া বেশি নেয় তারা।

থেকে আরও পড়ুন

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ৪ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের...

কুড়িগ্রামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি-২০২২’ প্রদান করা হয়েছে। ২০২২ সালের এসএসসি ও...

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ইফতার...

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) স্পোর্টস ক্লাব আয়োজিত ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ক্রিকেট টুর্নামেন্টে টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন...