শনিবার, জুলাই ২০, ২০২৪
৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইতালীতে ধর্ষনের স্বীকার হয়ে মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশী নারী

বিশেষ
প্রতিনিধি

ইতালী প্রবাসী এক বাংলাদেশী নারীর সাথে এমন ঘটনায় রোমের ভিক্টোরিয়া এলাকার একজন ব্যবসাহীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগীর রাসেদা আক্তার তার জবান বন্দিতে জানান-বিগত ২০২২ সালে শেষভাগে বিবাদী ফাইজ আহম্মেদ এর সাথে তার পরিচয় ঘটে বিবাদীর ব্যবসাহিক প্রতিষ্ঠানে। পরিচয়ের পর থেকে ধীরে ধীরে বিবাদীর সাথে রাসেদার সখ্যতা গড়ে উঠে। এরই মধ্যে ২০২৩ সালে ইতালী সরকারের ঘোষনায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিবে ইতালী। তারই ধারাবাহিকতায় এজহার ভুক্তবিবাদী,বাদী রাসেদা আক্তার কে বাংলাদেশ থেকে কৃষি ভিসা ও স্পন্সর ভিসায় লোক এন দেবার প্রতিশ্রতি প্রদান করেন । এমনকি জানান তাহার সাথে ফাইজ আহম্মেদ প্রষাশনের এ বিভাগের সাথে সু-ম্পর্ক রয়েছে,তাই তিনি ১০০ ভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করে কাজ করেন।এমন কি কিছু কাগজ বা নোলাস্থা দেখিয়ে বলেন এগুলো অরজিনাল্ নোলাস্থা ২০২২২ সালের । ঐ সময়ে বিবাদীর পক্ষে সাফাই গান আরও দু’তিন জন। যাহারা এ জাতীর ফটোকপি নোলাস্থা বা জাল জালিয়াতীর সাথে জড়িত। বিবাদী বাদীকে আরও বলেন যদি আপনাকে ভিসা দিতে ব্যর্থ হই তবে জমাকৃত সমুদয় অর্থ এক সপ্তাহের মধ্যে ফেরত প্রদান করবেন এমনকি একটি সেইন্টও কর্তন করা হবে না।
বিবাদীর কথায় আস্তার সাথে বিশ্বাস স্থাপন করেন। সে পরিপেক্ষিতে মৌখিত শর্ত থাকে প্রতিটি পাসপোট জমা প্রদানের নিম্মিতে অগ্রিম বাবদ ১০০০/-(এক হাজার ইউরো) প্রদান করতে হবে এবং নুলাস্তা পাবার পর বাকী ১৫,০০০ (পনের হাজার ইউরো টাকা নগদ প্রদান পুর্বক নুলাস্তা হস্তান্তর করা হবে। এ সহজ শর্তে রেহানা আক্তার নিজে আত্মীয় স্বজনদের ইতালীতে আনতে সর্বমোট ১৫টি পাসপোট কপি সহ নগদ ১৫০০০ ইউরো (পনের হাজার ইউরো) বিবাদীর নিকট জমা প্রদান করে থাকে। জমা প্রদানের সপ্তাহ বা পনের দিন পর বিভিন্ন নামে নুলাস্থার বিবাদী (ফাইজ আহম্মেদ, বাদী রাসেদা কে দিতে থাকে এবং১৫টি নুলাস্থা বাবদ =২,২৫,০০০ইউরো (দুইলক্ষ পচিশ হাজার ইউরো) নগদ বিভিন্ন কিস্তিতে আদান প্রদান করতেন। এরই মাঝে সময় অতিবাহিত হতে থাকে। বিবাদী নতুন প্রতারনার ফাঁদ আটে। সেই ফাঁদে পুনঃরায় ধরা পড়েন রাসেদা আক্তার । ব্যবসা বানিজ্য করার প্রলোভন দেখিতে আরও প্রায় =১,৯০,০০০ইউরো(এক লক্ষ নব্বই হাজার ইউরো) বিভিন্ন মেয়াদে হাতিয়ে নেন। এদিকে নুলাস্থা গুলো যথারীতি ভিএফ এস এ জমা প্রদান করন।কিন্তু ভিএফ এস এ ভিসা দীর্ঘ দিন জটিলতা কারনে কাজ বন্ধ থাকাতে,এ সকল নুলাস্থা জাল জালিয়াত জানা যায়নি। সম্প্রীতি ইতালীর ভিসা কার্যক্রম প্রতিয়া চালু হবার পর একের পর এক ভিসা জাল প্রমানিত হয়ে বেরিয়ে আসছে। এমতাবস্থায় আত্মীয় স্বজনদের চাপের মুখে বিপাকে পড়েন রাসেদা আক্তার।
বিষিয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিবাদীকে রাসেদা সমাধানের কথা বললে,বিবাদী এড়িয়ে যেতে থাকে এবং বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করেন। বিবাদী ইতিমধ্যে রেহানার সাথে যোগাযোগ স্থাপনের সকল মাধ্যম বন্ধ করে দেন।নিরুপায় হয়ে রাসেদা গত ২০২৪ সালে ১১মার্চ তারিখ বিবাদীর ভিক্টোরিয়ার ব্যবসাহীক প্রতিষ্ঠানে দেখা করতে গেলে,বিবাদী ভিশন ক্ষুব্ধ হয়ে যায়। রাসেদাকে বিবাদী জানান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আলোচনা করা যাবে না। তাকে নিয়ে বিবাদীর প্রতিষ্ঠানের সামনে রাখা গাড়ীতে আসেন আলোচনার জন্য ।গাড়ী লক করে পিছনের ছিটে বাদী ও বিবাদীর আলাপ চারিতার এক পর্যায়ে বিবাদী ক্ষুব্ধ হয়ে, বলেন তোর কাছ থেকে টাকা নেওয়া শেষ,এখন তোর দেহ ভোগ করে,ফেলে দিবো। সঙ্গে সঙ্গে তাহাকে মারধর ও তার স্তন,বুক পিঠঠে কামড় খামচি দিতে এমন কি রেহানার প্যান্ট খুলে ফেলার চেষ্টা করে । বাদী নিজেকে রক্ষার জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। গাড়ী লক থাকায় রাসেদা বাহিরে আসতে পার ছিলেন না ,বৈরী আবহাওয়া ও গাড়ী লক থাকায় তাহার চিৎকারের আওয়াজ বাইরের থেকে শোনা যাচ্ছিল না বলে জানান। উভয়ের ধস্তাধস্তির এক পযার্য়ে সুমনের পকেটে রাখা গাড়ির চাবিটি সিটের নিটে পড়ে যায়,রাসেদা সেটি আনলক সুইচ টিবে ছিড়া কাপড়ে গাড়ী থেকে নেমে বেরিয়ে আসেন।
এ সময়ে রাসেদার এহেন অবস্থা দেখে লোকজন জড়ো হলো,বিবাদী পুলিশ প্রশাষনকে কল করে বলেন,তাহার দোকানে হামলা করেছে। পুলিশ প্রাশাষন উভয় পক্ষের জবান বন্দি শুনে রাসেদা কে মেডিকেল রিপোর্ট করাতে হাসপাতে পাঠিয়ে দেন। মেডিকেল রিপোর্ট টে রাসেদার বুকে,গলায়, পিঠে আচড়ের চিহ্ন নিশিত করে ও বিশ্রামের জন্য রিপোর্ট প্রদান করেন।
রিপোর্টি টির ভিত্তিতে একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার আসামীর বিরুদ্ধে জাল জালিযাতী সহ আরও বহু মামলা রয়েছ এবং বিগত ২০২৪ সালে ৬ জানুয়ারী বিবাদীর বাসার যামিমের নিচ থেকে ৪ লাখ ৭০হাজার ইউরো উদ্ধার করেছে ইতালীয় পুলিশ।সংবাদ টি ইতালীর গনমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। জব্দকৃত অর্থ ছিলো বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে জাল-জালিয়াতী কাগজ পত্র সহ বিভিন্ন প্রতারনার মাধ্যমে অবৈধ আয়। এ মামলা শেষ হতে না হতে,জামিনে বেরিয়ে সুমন আবারও এহন কর্মে লিপ্ত রয়েছ। ধারনা করা হচ্ছে এদের পিছনে আরও কোন বড় চক্র কাজ করছে।এ চক্রটি এহন কাজ নেই ইতালীতে করছে না।তাদের এ জঘন্য কর্ম কান্ড ইতালীতে বাংলাদেশীদের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাড়াচ্ছে।সেই সাথে বর্তমান মেলনি সরকার বাংলাদেশীদের প্রতি আরও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন এবং বাংলাদেশের প্রতি বিমুখ হতে বাধ্য হতে চলেছে।।

থেকে আরও পড়ুন

সাহিত্য মোর প্রাণে, আন্দোলিত এ প্রাণ সাহিত্যের জয়গানে স্লোগানকে সামনে রেখে চলা কবি শাহ...

গত ১২ই জুন বুধবার, লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে, বাংলাদেশ হাই কমিশনার মাননীয়া সাইদা মুনা...

  ইতালির রোম শহরে প্রথম ইমিগ্রেশন সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান সার্ভিস ইতালি, সুনামির সাথে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।     বিশেষ...

  নবী প্রেমের সাড়াজাগানো কিংবদন্তি হযরত গাউছুল আজম (রাঃ) -মাননীয় মোর্শেদে আজম সংযুক্ত আরব আমিরাতে মুনিরীয়া...