শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৪
৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে বরাদ্দ না পেয়ে নিজেরাই নির্মাণ করছেন রাস্তা

মোবাশ্বের নেছারী
বিশেষ প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে বরাদ্দ না পেয়ে স্থানীয়রা সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নিজেরাই সড়ক নির্মাণ করছেন। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের চর কৃষ্ণপুরে স্থানীয়রা নিজেরাই দেড় কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করছেন। এরই মধ্যে নিজেদের শ্রম আর টাকায় চরের ভেতর দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণের কাজও শুরু করেছেন তারা। স্থানীয় রাস্তা নির্মাণ কমিটি আস্থার সঙ্গে রাস্তা নির্মাণ তত্ত্বাবধান করছে।
রাস্তা নির্মাণ কমিটির সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন স্তরে শৃঙ্খলার সাথে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সদ্যসের কেউ টাকা তুলছেন, আবার কেউ খরচের হিসাব রাখছেন। রাস্তাটি তৈরি হলে বহুমুখী সুবিধা পাবে এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, রস্তা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার জনমানুষ দুর্যোগের শিকার। তাদের নেই কোনো যোগাযোগের রাস্তা। বছরজুড়ে বন্যা, বৃষ্টি এবং শুকনো মৌসুমেও কোন রকমে কষ্ট করে ক্ষেতের আইল ধরে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পাকা সড়কে উঠতে হয়। এঅবস্হায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়া করতে তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এদিকে যোগাযোগের অভাবে এই সরাঞ্চলের স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়রা লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ওপর মহলে যোগাযোগ করেও একটি সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা হয়নি। তাই স্থানীয়রা একত্র হয়ে নিজেদের সড়ক নিজেরাই তৈরি করছেন।
চরের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী বলেন, ‘রাস্তাটি তৈরির জন্য বহুজনের কাছে গেছি। সবাই কথা দিয়েছেন কিন্তু কাজ হয় না। তাই আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা জানি, একটা রাস্তার জন্য আমাদের কত কষ্ট করতে হয়। বন্যা এবং বৃষ্টির মৌসুমে আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। প্রসূতি মায়ের জরুরি চিকিৎসা করাতে পারি না। রাস্তাটি নির্মাণ হলে সব সমস্যার সমাধান হবে। এ ছাড়া রাস্তাটি বন্যার সময় বাঁধের কাজ করবে। ফসলহানিও রোধ হবে।’
আরেক বাসিন্দা খোকন মিয়া বলেন, ‘সড়কটি নির্মাণে গ্রামবাসীদের একত্র করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। সবাই সাধ্যমতো টাকা দিয়ে সহযোগিতা করছে, আবার কেউ শ্রম দিচ্ছেন। সড়ক নির্মাণ একটা কমিটি করেছি। এই কমিটি আস্থার সাথে রাস্তা নির্মাণ বাস্তবায়ন করছে।’
রাস্তা নির্মাণ কমিটির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল খালেক বলেন, ‘গ্রামের বাসিন্দারা সাধ্য মত দুই হাজার থেকে বিশ হাজার টাকা দিয়েছেন। তবে এই টাকা খুব নগণ্য। রাস্তাটি নির্মাণে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ হবে।’
বল্লভেরখাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি তৈরিতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই চরের বাসিন্দাদের জোটবদ্ধ হয়ে কাজটি শুরু করার পরামর্শ দিয়েছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।’
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, ‘চর কৃষ্ণপুরবাসী সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণ করছেন। এটি প্রশংসনীয় কাজ। আমরা তাদের কাজে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। পরিদর্শন করে সেখানে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’

থেকে আরও পড়ুন

সদাকাতুল ফিতর এর মূল্য নির্ধারণ সর্বনিম্ন ১১৫ টাকা। চলতি রমজান মাসের  ফিতরার হার নির্ধারণ...

কুড়িগ্রাম জেলার গাও-গ্রামের নারীদের হাতের তৈরি টুপি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বেশ সুনাম অর্জন করেছে।...

বাগেরহাটের ফকিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকুরী দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ ও প্রতারণার...

নড়াইলের নড়াগাতীতে এশিয়ান টেলিভিশনের কালিয়া প্রতিনিধি আমানত ইসলাম পারভেজকে পঙ্গু করে দেওয়াসহ প্রান নাশের...