শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৪
৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে চেয়ারম্যানসহ পরিবারের ৭ সদস্য অচেতন 

মোবাশ্বের নেছারী
বিশেষ প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে চেয়ারম্যানসহ পরিবারের ৭ সদস্য অচেতন
মোবাশ্বের নেছারী কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকসহ বাড়ির ৭ সদস্য একসঙ্গে অচেতন হয়ে পড়েছে।
ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকসহ বাড়ির ৭ সদস্যকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (৮ মার্চ) রাতে এ ঘটনার পর অচেতন সবাইকে চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চেয়ারম্যান পরিবারের অচেতন সদস্যরা হলেন, চেয়ারম্যানের মা মজিরন বেওয়া, স্ত্রী চায়না বেগম, মেয়ে আঁখি ও তিন বোন শাহেদা, শাহেরা ও ছকিনা বেগম।
চেয়ারম্যান পরিবারের বরাত দিয়ে ইউপি সদস্য (মেম্বার) আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত বুধবার সকালের খাবার খেয়ে চেয়ারম্যান ভূরুঙ্গামারীতে যান। সেখানে গিয়ে দুপুরের দিকে চেয়ারম্যান অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে কুড়িগ্রামে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে বাড়িতে আনা হয়। এ সময় বাড়ির সবাইকে অসুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। পরে আবারও শুক্রবার সকাল থেকে সবার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। কেউ সারাদিন ঘুমে অচেতন; আবার কেউ চোখ খুলে তাকাতেও পারছেন না। চেয়ারম্যানও আবার অসুস্থ হয়ে ঘুমের ঘোরে চলে যান। তিনি কথা বলতে পারলেও চোখ খুলে তাকাতে পারছেন না। মনে হচ্ছে প্রচণ্ড ঘুম পেয়েছে তার। একা হাঁটতেও পারছেন না। গতকাল সন্ধ্যার দিকে অচেতন সবাইকে জরুরি ভিত্তিতে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কেদার মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হাফিজুর মণ্ডল জানান, খবর পেয়ে আমরা পরিস্থিতি দেখতে এসেছি। এখানে বাড়ির ভিতরে কেউ ১০-১৫ মিনিট থাকলেই অসুস্থবোধ করছেন। হয়তো কেউ অসৎ উদ্দেশে চেতনানাশক ছিটিয়েছেন।
বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, আমিসহ বাড়ির সবাই একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি আছি। চিকিৎসা চলছে। আমার বাড়িতে বেড়াতে আসা তিন বোনের অবস্থাও বেশি খারাপ।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম সায়েম জানান, খবর পাওয়া মাত্র তাদের হাসপাতালে আনতে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে থাকতে পারে অথবা ঘরে চেতনানাশক ছিটাতে পারে।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহিনুর রহমান সর্দার জানান, রাতে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা থেকে একসঙ্গে ৭ জন এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরীক্ষার পর আসলে জানা যাবে তাদের কেন এমনটা হয়েছে।
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিশ্বদেব রায় বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ধারণা করা হচ্ছে, চুরির উদ্দেশে কেউ খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’#

থেকে আরও পড়ুন

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লীতে বিএনপি-জামাতের কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত যুবলীগকর্মী আজাদ শেখ হত্যা মামলার...

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফ'র তাণ্ডব; ২৪তম ‘বড়াইবাড়ী দিবস’ পালন মোবাশ্বের নেছারী কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী...

দেশে মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত- ৫৬৫ আহত- ১২২৮ জন নিজস্ব প্রতিবেদক: গত মার্চ মাসে দেশের বিভিন্ন...

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পিতা-পুত্রের লড়াই! মোবাশ্বের নেছারী কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে...