শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৪
৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মনোহরদীতে পুরনো ব্যাটারি থেকে চলছে সীসা সংগ্রহ

নিশাদ রহমান
মনোহরদী উপজেলা প্রতিনিধি

 

মনোহরদীতে অবৈধ কারাখানায় পুরোনো ব্যাটারি থেকে সিসা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দেখা দিচ্ছে মানুষের রোগবালাই। সারাদিন কারখানার শ্রমিকরা সিসা প্রসেসিং কাজে ব্যাস্ত থাকলেও  সারা রাত ধরে চলে ব্যাটারি গলানোর কাজ। উপজেলার একদুয়ারিয়া  ইউনিয়নের চঙ্গভাণ্ডা ও নোয়াদিয়া সড়কের পাশে এই কারখানাটি গড়ে উঠেছে। গ্রামের  ভিতরে  কারখানাটি তৈরি করা হয়েছে। কারখানায় ২০/২৫ জন কর্মী দিনরাত কাজ করছেন। 

দিনে এই কারখানায় ব্যাটারি গলানোর কাজ না হলেও সিসা প্রসেসিং এর কাজ চলে শুনশান নিরবতায় ।সরেজমিনে  গিয়ে দেখা যায়, কারখানার দরজা বন্ধ। বাইরের কোনো লোকজনকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কারখানার ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে কর্মচারীদের ঘুমানোর জন্য বড় বড় চৌকিতে বিছানা রয়েছে। আর সামনের আঙিনায় ব্যাটারি গলানো সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল ফেলে রাখা হয়েছে।কারখানার ম্যানেজার মো.বাকির বলেন,  চার জনের পার্টনারশিপে চলে এ কারখানা।  সারারাত ধরে ব্যাটারি গলানোর কাজ করেন কর্মীরা। এখানকার কর্মীদের বাড়ি বগুড়া। এই কাজে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে জেনেও নিরুপায় হয়েই কাজ করছেন বলে শ্রমিকরা জানান।

২ বছর আগে উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে এরকম একটি কারখানা তৈরি করা হয়েছিল। সেই কারখানার ক্ষতিকর প্রভাবে এলাকার গাছপালা মরে যাচ্ছিল। তখন এলাকাবাসীর অভিযোগে  প্রশাসন কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। জানা যায় সেই কারখানাটিই স্থানান্তর করে ওই জায়গায় গড়ে তোলা হয়।

এলাকাবাসীরা জানান, ওই কারখানায় সিসা গলানোর গন্ধে গ্রামের লোকজন ঘুমাতে পারছেন না। ইতিমধ্যেই কিছু কিছু ধানের গাছের ডগা পুড়ে যাচ্ছে। এই কারখানার বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই ধানের ক্ষতি হচ্ছে।’কারখানার এক মালিক শাহীন মিয়ার বাড়ি বগুড়া  জেলায়। জানা যায় তিনিই এই কারখানা মূল উদ্যোক্তা। তিনি একা ব্যবসা করতে পারবেনা বিধাই এখানে স্থানীয় কয়েকজনকে সাথে নিয়ে মাসের পর মাস এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কারখানা স্থাপনের আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে শাহিন মিয়া বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি।একদুয়ারিয়া  ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা রফিকুল ইসলাম ফারুক বলেন, শুনেছি এখানে একটা কারখানা হয়েছে।  ইতিমধ্যে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ নিয়ে আসতে শুরু করেছেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) হাছিবা খান বলেন, এই ধরনের কারখানা স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, এগুলো আইনত থাকতে পারেনা, এই ধরনের কারখানা থেকে থাকলে  আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবো।

থেকে আরও পড়ুন

সদাকাতুল ফিতর এর মূল্য নির্ধারণ সর্বনিম্ন ১১৫ টাকা। চলতি রমজান মাসের  ফিতরার হার নির্ধারণ...

কুড়িগ্রামে বরাদ্দ না পেয়ে স্থানীয়রা সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নিজেরাই সড়ক নির্মাণ করছেন। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস...

কুড়িগ্রাম জেলার গাও-গ্রামের নারীদের হাতের তৈরি টুপি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বেশ সুনাম অর্জন করেছে।...

বাগেরহাটের ফকিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকুরী দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ ও প্রতারণার...