শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৪
৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দেশে কমছে স্মার্টফোনের উৎপাদন ও বিক্রি, কমছে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যাও

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে, দেশে স্মার্টফোনের উৎপাদন টানা তিন মাস ধরে কমছে। সেই সাথে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যাও কমছে। তবে স্মার্টফোনের উৎপাদন কমলেও বেড়েছে ফিচার ফোনের উৎপাদন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে স্মার্টফোনের উৎপাদন ছিল ৩৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। উৎপাদনের এই হার বেড়ে সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ হয় গত মার্চ মাসে। তারপর কোনো মাসে উৎপাদন কিছু কমেছে, কিছু বেড়েছে।

তবে গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্মার্টফোনের উৎপাদন টানা কমতির দিকে। গত নয় মাসে সবচেয়ে কম স্মার্টফোন উৎপাদন হয় সেপ্টেম্বর মাসে, ২৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

দেশে স্মার্টফোনের উৎপাদন কমলেও বেড়েছে ফিচার ফোনের উৎপাদন। গত জানুয়ারিতে ফিচার ফোনের উৎপাদন ছিল ৬৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বাড়তে বাড়তে তা এখন ৭৩ দশমিক ৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মুঠোফোন বিক্রেতারা বলছেন, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। তবে শুধু কথা বলার জন্য অনেকে স্মার্টফোনের পাশাপাশি একটি ফিচার ফোনও রাখে। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আগে যে একটি স্মার্টফোনের কথা ভাবত, সে এখন ফিচার ফোন কিনেই প্রয়োজন মেটাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশে এখন ১৪টি প্রতিষ্ঠান মুঠোফোন উৎপাদন করছে। দেশে বছরে স্মার্টফোনের চাহিদা ১ কোটির মতো। এর অধিকাংশই মেটায় দেশে উৎপাদিত মুঠোফোন।

দেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যাও কমেছে।

বিটিআরসির হিসাবে, গত জুলাইয়ে ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল ১২৭ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন। যা পরের মাসে কিছুটা কমে হয় ১২৭ দশমিক ২৬ মিলিয়ন। গত জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক ১১ দশমিক ১৪ মিলিয়নই আছে। অন্যদিকে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কিছুটা কমেছে। জুলাই মাসে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল ১১৬ দশমিক ৪১ মিলিয়ন। আগস্ট মাসে, তা কমে হয়েছে ১১৬ দশমিক ১২ মিলিয়ন।

টানা তিন মাস ব্রডব্যান্ড গ্রাহকসংখ্যা একই থাকার কারণ হিসেবে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ব্রডব্যান্ড সংযোগের জন্য কেব্‌লসহ অনেক কিছুই বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। এর খরচ বেড়েছে। একসময় ইন্টারনেট সংযোগ নামমাত্র মূল্যে বা বিনা মূল্যেই দেওয়া হতো। কিন্তু এখন তা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে নতুন গ্রাহক আসছে না।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে মুঠোফোন গ্রাহক ছিল ১৮০ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন, যা গত জুলাই পর্যন্ত বেড়ে হয় ১৮৪ দশমিক শূন্য ৫ মিলিয়ন। তবে তা আগস্টে কমে হয় ১৮৩ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন।

দেশে এখন চারটি মোবাইল অপারেটর আছে। এগুলোর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সবচেয়ে বেশি। গত জুনের শেষ দিকে গ্রামীণফোনের সিম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় বিটিআরসি।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিটিআরসি জানায়, গ্রামীণফোন অব্যবহৃত সিম বিক্রি করতে পারবে, নতুন সিম নয়। বিটিআরসির হিসাবমতে, নিষেধাজ্ঞার পর গ্রামীণফোনের ৩৪ লাখ গ্রাহক কমেছে। এর প্রভাব স্বভাবত পড়েছে মোট মুঠোফোন গ্রাহকের ওপর।

থেকে আরও পড়ুন

সদাকাতুল ফিতর এর মূল্য নির্ধারণ সর্বনিম্ন ১১৫ টাকা। চলতি রমজান মাসের  ফিতরার হার নির্ধারণ...

কুড়িগ্রামে বরাদ্দ না পেয়ে স্থানীয়রা সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নিজেরাই সড়ক নির্মাণ করছেন। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস...

কুড়িগ্রাম জেলার গাও-গ্রামের নারীদের হাতের তৈরি টুপি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বেশ সুনাম অর্জন করেছে।...

বাগেরহাটের ফকিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকুরী দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ ও প্রতারণার...